বাংলাদেশের একমাত্র গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল ফিজিক্স এন্ড বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ দেশের রোল মডেল হিসেবে এখন সারা বিশ্বে পরিচিতি লাভ করেছে। তার প্রেক্ষিতে সম্প্রতি আফ্রিকা মহাদেশের রুয়ান্ডার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জার্মানী সফর করে এই বিভাগের কথা জানতে পারেন। সেখানে তিনি কথা বলেন জার্মানীর  প্রখ্যাত চিকিৎসা পদার্থবিদ বাংলাদেশের চিকিৎসা পদার্থবিদ্যার দিকপাল, গণ বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা পদার্থবিদ্যা বিভাগের প্রতিষ্টাতা ও অধ্যাপক ড. গোলাম আবু জাকারিয়ার সাথে। আফ্রিকার সরকার সম্প্রতি ক্যান্সার চিকিৎসার উন্নয়নের জন্য আফ্রিকার হাসপাতালগুলোতে নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজন করছেন। কিন্তু আফ্রিকার কোন শিক্ষা প্রতিষ্টানে চিকিৎসা পদার্থবিদ্যা বিষয়টি নেই। তাই আফ্রিকান সরকার চিকিৎসা পদার্থবিদ তৈরির লক্ষ্যে প্রফেসর ডঃ গোলাম আবু জাকারিয়া কে লিখিতভাবে জানান এবং প্রফেসর জাকারিয়া তাদের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য অবহিত করেন। এই প্রেক্ষিতে ২০১৯ সালে রুয়ান্ডা সরকারের মনোনীত দুইজন শিক্ষার্থীকে এম.এস.সি ইন মেডিকেল ফিজিক্স ডিগ্রীর জন্য গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেরণ করেছেন। এবং এই দুইজন ছাত্র রুয়ান্ডার প্রথম চিকিৎসা পদার্থবিদ্যার ছাত্র।  

উল্লেখ্য যে, ২০০০ সাল থেকে দেশের প্রথম ও সমৃদ্ধ গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল ফিজিক্স এন্ড বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা পদার্থবিদ তৈরির সূতিকাগার হিসেবে কাজ করছে। যার ফলশ্রুতিতে ২০১৩ সালে নেপাল সরকার তাদের দেশে চিকিৎসা পদার্থবিদ তৈরির লক্ষ্যে এই বিভাগকে বেছে নেই। এই পর্যন্ত নেপালের ৫ জন ছাত্র গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল ফিজিক্স এন্ড বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে ডিগ্রী নিয়ে সফলতার সাথে নিজেদের দেশের চিকিৎসা পদার্থবিদ্যায় অবদান রাখছে এবং ক্যান্সার চিকিৎসায় কাজ করছে। গণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রীপ্রাপ্ত ছাত্ররাই নেপালের প্রথম চিকিৎসা পদার্থবিদ। সম্প্রতি নেপাল সরকার গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল ফিজিক্স এন্ড বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এম,এসসি ডিগ্রীকে নেপাল সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমতুল্য নদপত্র প্রদান করেছে, যার কারনে মেডিকেল ফিজিক্স এন্ড বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে পাশকৃত চিকিৎসা পদার্থবিদ দের সরকারী চাকুরী করার দার উন্মুক্ত হয়েছে, এই বিভাগ ধীরে ধীরে সারা বিশ্বের চিকিৎসা পদার্থবিদ্যার এক তীর্থক্ষেত্র হিসেবে পরিণত হচ্ছে। এই বিভাগের সফলতার মূল কারিগর দেশের প্রথম মহিলা চিকিৎসা পদার্থবিদ প্রফেসর ডঃ হাসিন অনুপমা আজহারি এই ব্যাপারে জানতে চাইলে বলেন, “ আমাদের এই বিভাগের সিলেবাস আন্তর্জাতিক মানদন্ড বজায় রেখে তৈরি করা হয়েছে । আমরা সবচেয়ে যেটা বেশি নজর দেই সেটা হল গবেষণা ও ব্যাবহারিক বিষয়ে। এবং আমাদের ছাত্রদের গবেষণা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। যার ফলে আমাদের ছাত্ররা এখন দেশ এবং দেশের বাইরে সফলতার সাথে কাজ করছে। জার্মানি, যুক্তরাজ্য, দক্ষিন কোরিয়া, পোল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, জাপান, ইতালি সহ বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় আমাদের ছাত্ররা আজ তাদের উচ্চতর ডিগ্রী নিচ্ছে। যার কারণ বিভাগের সকল শিক্ষকের কঠোর পরিশ্রম ও ছাত্রদের সহযোগিতা। আর সাথে ধন্যবাদ জানাচ্ছি গণ বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষকে সহযোগিতা করার জন্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published.